ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে স্পেন
প্রতিবেদক: Abdul Latif Sarkar

সংগৃহিত
বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ২০১০ সালে সর্বশেষ শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ খেলা স্প্যানিশদের দাপটে ডালাস স্টেডিয়ামের এই সেমিফাইনালে ফরাসিরা বেশ অসহায় ছিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণ দেখা যায়। নবম মিনিটে বক্সের বাইরে ফ্রি কিক পায় স্পেন। তবে বায়েনার নেওয়া কিক রক্ষণদেয়ালে আটকে যায়। এরপর ১৪ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে ফ্রান্স দারুণ সুযোগ পেয়েছিল। এমবাপ্পে বল নিয়ে দ্রুত বক্সে ঢুকলেও স্পেনের কুবারসি ও লাপোর্তে নিজেদের পজিশনে থেকে তাকে রুখে দেন। তখন এমবাপ্পের সামনে কেবল পোরো ও স্প্যানিশ গোলকিপার ছিলেন।
স্পেন প্রথম গোলের দেখা পায় পেনাল্টি থেকে। ২০ মিনিটে স্প্যানিশ লেফটব্যাক কুকুরেয়া বক্সে ক্রস বাড়ান। ফরাসি ডিফেন্ডার দিনিয়ে বুক দিয়ে বল থামাতে গিয়ে ব্যর্থ হন এবং সামনে থাকা লামিন ইয়ামালকে ফাউল করে বসেন। রেফারি দ্রুত পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ১৯ বছর ১ দিন বয়সী ইয়ামাল বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে পেনাল্টি আদায় করেন।
২৩ মিনিটে স্পট কিক থেকে গোল করেন মিকেল ওয়ারসাবাল। ডানদিকে শট নেন তিনি, ফরাসি গোলরক্ষক মাগনিয়ঁ ঠিক দিকেই ডাইভ দিয়েছিলেন, কিন্তু বল তার নাগালের বাইরে দিয়ে জালে জড়ায়।
পিছিয়ে পড়ার পর ফ্রান্সের বিপদ আরও বাড়ে। ২৯ মিনিটে ইনজুরির কারণে দলের সেন্টার ব্যাক সালিবা মাঠ ছাড়েন। কোচ দিদিয়ের দেশম তার বদলি হিসেবে ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়াকে নামাতে বাধ্য হন।
প্রথমার্ধের বাকি সময়ে দুই দলই সুযোগ তৈরি করেছিল। ৩৬ মিনিটে স্পেনের বায়েনা দূরপাল্লার ক্রস থেকে বল পান। মাগনিয়ঁ তাকে আটকাতে চেয়েছিলেন, তবে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড শট নিলেও অফসাইডের বাঁশি বাজে। পরের মিনিটে ফরাসি তারকা বারকোলার ডানপায়ের বাঁকানো শট গোলবারের অনেক ওপর দিয়ে যায়।
৪০ মিনিটে স্পেন দারুণ একটি সুযোগ তৈরি করে। ওলমো আর ইয়ামাল ওয়ান টু পাস খেলেন। এরপর ওলমোর ব্যাকহিল থেকে ইয়ামাল বল বাড়ান রুইজকে। কিন্তু রুইজের শট বার ঘেঁষে চলে যায়। বিরতির ঠিক আগে ৪৩ মিনিটে ফ্রান্সও ভালো সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু এমবাপ্পে বল পাওয়ার আগেই স্প্যানিশ গোলরক্ষক সিমন দ্রুত বক্সের বাইরে এসে তা ক্লিয়ার করেন। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্পেন।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্প্যানিশরা। কাউন্টার অ্যাটাকে দানি ওলমো প্রথম সুযোগটি হাতছাড়া করেন এবং ওইয়ারজাবালকে বল পাস দিতে ব্যর্থ হন। তবে বলটি শেষ পর্যন্ত পেড্রো পোরোর কাছে যায়। পোরো ওলমোর সঙ্গে ওয়ান টু খেলে মাগনিয়ঁকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান। তিন মিনিট পর ৬১ মিনিটে ইয়ামাল দারুণ একক চেষ্টায় বল জালে পাঠালেও লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা ওড়ান। বার্সা তারকা শেষ ডিফেন্ডার দিনিয়ের চেয়ে কয়েক মিলিমিটার এগিয়ে ছিলেন।
ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে ফ্রান্স মুহুর্মুহু আক্রমণ চালাতে থাকে। কিন্তু গোলরক্ষক সিমন ও ডিফেন্ডার কুকুরেয়ার বাধায় তারা সফল হয়নি। ৬৮ মিনিটে বক্সের প্রান্ত থেকে নেওয়া এমবাপ্পের শট আটকে দেন কুকুরেয়া। ৮০ মিনিটে বদলি নামা স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেসের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
৮২ মিনিটে গোলরক্ষক সিমন ভুল করে বক্সের বাইরে চলে এলে দুয়ে শট নেন, তবে সিমন দ্রুত পেছনে ফিরে বক্সের ভেতর তা ব্লক করেন। পরের মিনিটে হার্নান্দেজকেও রুখে দেন তিনি। ৮৯ মিনিটে এমবাপ্পের শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায় এবং পরের মিনিটে এমবাপ্পের আরেকটি শট নিজেদের বক্সের ভেতর থেকে ক্লিয়ার করেন কুকুরেয়া। ২-০ গোলের স্বস্তির জয় নিয়ে ফাইনালে পা রাখে স্পেন।
পাঠকের মন্তব্য (০)
মন্তব্য করতে দয়া করে আপনার গুগল একাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।
গুগল দিয়ে লগইন করুন



