জাতীয় বিভাগের সর্বশেষ খবরসমূহ (১৬টি সংবাদ)


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে স্থানীয় বিএনপির একটি গ্রুপের ষড়যন্ত্রের বিচার চাইলেন লালমনিরহাট- ২ আসনের এমপি রোকন উদ্দিন বাবুল। মঙ্গলবার(১৮ আগস্ট) রাতে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সরকারি আদিতমারী জিএস উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কর্মী সুল্যায়ন সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বিচার প্রার্থী হন। কর্মী মূল্যায়ন সভায় সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সম্পাদকসহ সকল সংগঠনের নেতারা মঞ্চে রয়েছেন। এরা কি তৃণমূলের নেতা না? তাহলে কি ওই কজন নেতা? যারা আজ তৃণমূল দাবি করে আমাকে অযোগ্য বলছেন, আমার দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী যদি বলেন, আমি অযোগ্য এবং পদত্যাগ করতে বলেন, তাহলে একটা মুহূর্তও বিলম্ব নয়, সঙ্গে সঙ্গে আমি পদত্যাগ করব। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই। তিনি যেন সুষ্ঠ তদন্ত করে আমার ওপর এ ষড়যন্ত্রের বিচার করেন। রোকন উদ্দিন বাবুল বলেন, এই চক্রটি মনোনায়নের সময়ও ষড়যন্ত্র করেছে। কিন্তু দলের চেয়ারম্যান সুষ্ঠু তদন্ত করে আমাকে মনোনায়ন দিয়েছেন। তারা আগের মত আবারও ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। যারা ষড়যন্ত্র করছেন, তারা শুধু আমার ক্ষতি করছে না, তারা শহীদ জিয়ার পরিবারের ক্ষতি করছে। তারা চায় না এ আসন জাতীয়তাবাদী দলের এমপি হোক। তা তারা চায় না। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল বলেন, আপনার সজাগ থাকবেন, আপনারা সতর্ক থাকবেন, আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। কোনো শক্তি নেই, যারা শহীদ জিয়ার পরিবারের ক্ষতি করবে, আমার অস্তিত্বের ক্ষতি করবে, আমাকে হেয় করবে। এর আগে প্রজেক্টরের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণের ১৮০ দিনের উন্নয়নের অগ্রযাত্রার ডকুমেন্টরি প্রদর্শন করা হয়। কর্মী মূল্যায়ন সভায় উপজেলার সকল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সম্পাদকসহ সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বক্তব্যের মধ্যে দাবি করেন, কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম মনোনায়ন চেয়ে বঞ্চিত হওয়ায় নির্বাচন পূর্ব থেকে এ আসনের বিএনপি দুই ভাগে বিভাক্ত হয়ে পড়ে। ওই পক্ষটির অসহযোগিতার পরেও এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে রোকন উদ্দিন বাবুল জয়লাভ করেন। অল্প দিনে তার উন্নয়নে ঈর্ষান্বিত হয়ে চক্রটি সংসদ সদস্যের বিরোধিতায় নোংরা ষড়যন্ত্র করে উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছেন। নেতাকর্মীরা এ ষড়যন্ত্রের তীব্র প্রতিবাদ জানান।


ইউনাইটেড নেশনস মিশন ইন সাউথ সুদান (ইউএনমিস) ও ইউনাইটেড নেশনস ইন্টারিম সিকিউরিটি ফোর্স ফর আবেই (ইউনিসফা) পরিদর্শন শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সেখানে পাঁচ দিনের সরকারি সফর শেষে আজ দেশে ফিরলেন তিনি।সফরকালে সেনাবাহিনী প্রধান দক্ষিণ সুদানে মোতায়েনরত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোম্পানি, পদাতিক ব্যাটালিয়ন ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফোর্স মেরিন ইউনিট এবং আবেই-তে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদাতিক ব্যাটালিয়ন পরিদর্শন করেন।উভয় মিশন এলাকায় সেনাবাহিনী প্রধান বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়া তিনি ইউএনমিস ও ইউনিসফা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি স্টাফ অফিসার, অবজারভার এবং কন্টিনজেন্ট সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের কার্যক্রম ও মিশনের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন।সফরের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী প্রধান ইউএনমিস-এর ফোর্স কমান্ডার মেজর জেনারেল জুনহুই উ এবং ইউনিসফা-এর ফোর্স কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল গণেশ কুমার শ্রেষ্ঠ -এর সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।এছাড়া, তিনি আবেই-তে মিশন লিডারশিপ টিম এবং সুদান ও দক্ষিণ সুদানের ন্যাশনাল মনিটরগণের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এ সব সাক্ষাতে মিশনের সার্বিক কার্যক্রম, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং অভিযানিক চ্যালেঞ্জসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।পরে সেনাবাহিনী প্রধান দক্ষিণ সুদানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী চল থন বালোক এবং প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রধান জেনারেল সান্টিনো ডেং ওল-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। এ সময় দক্ষিণ সুদান প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী প্রধানকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।সেনাবাহিনী প্রধানের এ সফর বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের মনোবল বৃদ্ধির পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট দেশ ও জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করবে এবং বাংলাদেশের জন্য শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের পরিধি সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়।


রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের জন্য ১১ দলের প্রার্থী এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। রোববার (৯ আগস্ট) বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামী আমিরের বাসায় ১১ দলীয় জোটের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের এ কথা জানান। গত বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) সচিব আখতার আহমেদ ২৩ তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল ১৩ আগস্ট ১০ টা থেকে ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই ১৬ আগস্ট।প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ অগাস্ট। ভোটগ্রহণের তারিখ ও সময় ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে ৫টা, সংসদ অধিবেশন কক্ষে। ইতোমধ্যে নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে ইসি। এতে ২৪৯ জন ভোটার রয়েছে। এর আগে গত ২৪ জুলাই অসুস্থতা দেখিয়ে ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন।

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে আগামী ১০ আগস্ট। সোমবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর ফল আগামী ১০ আগস্ট সারাদেশে একযোগে প্রকাশ করা হবে। ফল সংগ্রহ ও দেখার নিয়মাবলি পরবর্তী সময়ে পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, ২০ জুলাই এসএসসির ফলাফল প্রকাশের কথা ছিল, কিন্তু প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় তা পিছিয়ে গেছে। চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গত ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে চলে ২০ মে পর্যন্ত। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিতে নিবন্ধন করেছিল মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। এছাড়া, পরীক্ষা চলাকালে অসদুপায় অবলম্বন বা নকলের অভিযোগে মোট ২০৮ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।


বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করায় জাতীয় সংসদের স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রমকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া শুভেচ্ছা জানান। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদের স্পীকারের নিকট পদত্যাগপত্র পাঠান। পরবর্তীতে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণের পর ডেপুটি স্পীকার, চিফ হুইপ, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব রাষ্ট্রপতির সফলতা ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।


ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শুক্রবার ব্রিফিংয়ে স্পিকার রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এটি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের নথিতে সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে স্পিকার বলেন, বিদায়ী রাষ্ট্রপতি গুরুতর অসুস্থ। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন। এছাড়া তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। স্পিকার আরও জানান, সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় রাষ্ট্রপতির ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ রোগ ধরা পড়েছে। এ রোগের কারণে তিনি মাঝেমধ্যে অচেতন হয়ে পড়েন। বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা এবং মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি স্বাস্থ্যগত কারণেই পদত্যাগ করেছেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে স্পিকার বলেন, সংবিধান অনুযায়ী যেদিন আমি স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছি, সেদিনই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবেও শপথ নিয়েছি, যাতে প্রয়োজন হলে এ দায়িত্ব পালন করতে পারি। তিনি বলেন, একইভাবে ডেপুটি স্পিকারও শপথের সময় এমন অঙ্গীকার করেন যে, স্পিকারের পদ শূন্য হলে তিনি সেই দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে চলমান গুঞ্জনের প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার বলেন, আজ দুপুর থেকেই এ বিষয়ে নানা ধরনের আলোচনা শুনছি। তবে প্রকৃত সত্য হলো, তিনি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যগত কারণেই পদত্যাগ করেছেন। আমি তার দ্রুত সুস্থতা ও মঙ্গল কামনা করি। সাবেক সরকারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয়, তিনি আগের সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের প্রতি সবসময়ই সমর্থন ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন। ক্রীড়াঙ্গন ও রাজনীতির এক অনন্য ব্যক্তিত্ব মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা।


অবশেষে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে রাষ্ট্রপতির মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হয়। পদত্যাগের কারণ প্রসঙ্গে পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন লেখেন, তিনি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। তার নতুন রোগ শনাক্তের কথা জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, ‘ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় Autonomic Neuropathy (অটোনমিক নিউরোপ্যাথি) নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।’ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ২০২৩ সালের এপ্রিলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। সাহাবুদ্দিন চুপ্পুই একমাত্র ব্যক্তি যিনি রক্তাক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও এতদিন শীর্ষ কোনো সাংবিধানিক পদে বহাল ছিলেন। আওয়ামী লীগ, অন্তবর্তী সরকার এবং সবশেষ বিএনপি; তিন সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতির অপসারণ নিয়ে বেশ আন্দোলন ও আলোচনা ছিল। একটি রাজনৈতিক দলের বাধায় সে যাত্রায় টিকে গিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় তার পদত্যাগ বা অপসারণ নিয়ে বেশ কয়েকবার গুঞ্জন হলেও এবার তা সত্যি হলো।


সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এর আগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনকেও আলাদা চিঠি দেয় জামায়াত। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার চিঠিটি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, গত ২২ জুলাই আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গোলাম পরওয়ার স্পিকারকে লেখা চিঠিতে বলা হয়, গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি তার অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাখিল করা হলো। চিঠির অনুলিপি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছেও পাঠানো হয়েছে। গাজী নজরুল ইসলাম জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। দল থেকে বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য পদ নিয়ে কী ধরনের সাংবিধানিক বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখন স্পিকারের সিদ্ধান্তের দিকে নজর থাকবে।


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সাথে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন তো গুঞ্জনই। সেটি যদি ঘটনা হয়, তখন তো আমরাও জানবো। মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগ করতে চান, সেটির সাংবিধানিক বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগ করবেন। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কিছু বলার নেই। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি যদি স্বাস্থ্যগত কিংবা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব ছাড়তে চান, তাহলে সাংবিধানিকভাবে সে সুযোগ রয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখানে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই। সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কিছু বলা হচ্ছে না। তিনি (রাষ্ট্রপতি) স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করতে চেয়েছেন কি না, সেটি তাকেই জিজ্ঞেস করতে হবে।


নৈতিক স্খলনের অভিযোগ সাংগঠনিক তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল ৪টায় রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা এতে উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়গুলোর বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে তার নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। তবে এ বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলামের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


পর্যায়ক্রমে সারাদেশে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার (২০ জুলাই) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এর সম্প্রসারণের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় ধাপে ধাপে সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বিস্তারের লক্ষ্যে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ, আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। উপকারভোগীদের বিষয়ে সরকারপ্রধান বলেন, দেশের প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা কার্যকর, স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে পৌঁছে দিতে একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তথ্যভাণ্ডার (ডাটাবেজ) গড়ে তুলতে হবে। এ ছাড়া তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কড়া নির্দেশনা দেন। বৈঠকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ. বি. এম. আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুল আওয়াল, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বার্ষিক যৌথ মহড়া ‘টাইগার লাইটনিং’-এর উদ্বোধন হবে রোববার (১৯ জুলাই)। এই দ্বিপক্ষীয় মহড়ায় উভয় দেশের ১৬০ জনেরও বেশি সামরিক সদস্য অংশগ্রহণ করবেন। এর মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস জানায়, টাইগার লাইটনিং ২৬-এ জঙ্গলাঞ্চলে অভিযান, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম এবং কৌশলগত যুদ্ধক্ষেত্রে আহতদের চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই প্রশিক্ষণ উভয় দেশকে একে অপরের দক্ষতা সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ করে দেবে। এই দ্বিপক্ষীয় মহড়া ইউএস আর্মি প্যাসিফিকের থিয়েটার আর্মি ক্যাম্পেইন প্ল্যান এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা কর্মসূচির অংশ। এর লক্ষ্য হলো পেশাগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা, সামরিক কার্যক্রমের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রস্তুতি উন্নত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও আন্তঃকার্যক্ষমতা আরও জোরদার করা। টাইগার লাইটনিং হলো যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় যৌথ সামরিক মহড়া, যা ২০১৭ সালে শুরু হয়। কোভিড-১৯ মহামারির সময় এটি সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও পরবর্তী পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মহড়াটি শ্রেণিকক্ষভিত্তিক ও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন পরিবেশে পরিচালিত হবে এবং এর সমাপনী পর্বে একটি পূর্ণাঙ্গ ফিল্ড ট্রেনিং এক্সারসাইজ অনুষ্ঠিত হবে।


মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, দেশে প্রবেশ করলেই তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের রায় কার্যকর করা হবে। এ লক্ষ্যে ভারত সরকারের কাছে তাকে ফেরত চেয়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যারা গণহত্যা চালিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। আওয়ামী লীগ ও তাদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ন্যূনতম অনুশোচনাও নেই। আওয়ামী লীগের ইতিহাস জনগণকে হত্যা, দমন-পীড়ন ও বর্বরতার ইতিহাস। দল হিসেবেও আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনা হবে। আইনের মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদী শক্তিকে চিরতরে পরাজিত করা হবে। তিনি বলেন, দেশে পালিয়ে থাকা কিংবা বিদেশে অবস্থানরত দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ পলাতকদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে দ্রুত ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ ফ্যাসিবাদকে বিদায় জানিয়েছে। গণভবনে প্রতিষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্মরণ করিয়ে দেবে—স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পরিণতি কী হতে পারে। এ দেশে আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদের উত্থান হতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনায় সব গণতন্ত্রকামী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচার জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে ছাত্রসমাজ অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানও তার ব্যতিক্রম নয়। শিক্ষার্থীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে যাতে আর কখনো স্বৈরাচারের কবলে পড়তে না হয়, সে লক্ষ্যেই সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, স্লোগাননির্ভর সন্ত্রাসী রাজনীতির অবসান ঘটেছে। ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগের বিদায় দেশের শিক্ষাঙ্গনে নতুন গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করেছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির, সহ-সভাপতি আমানুল্লাহ আমান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।


আরও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব দেশ গড়তে সবাইকে বেশি করে গাছ লাগানোর অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি শিশুদের প্রতি বছর অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর এবং সেই গাছ সম্পর্কে জানার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান। বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানের আগে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন। একই সময়ে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে একযোগে প্রায় দুই লাখ গাছের চারা রোপণের কার্যক্রম শুরু হয়। শিশু শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা চেষ্টা করবে প্রতি বছর অন্তত একটি করে গাছ লাগাতে। সেটা স্কুলে হোক কিংবা বাসার আশপাশে—যেখানেই সুযোগ পাও, একটি গাছ রোপণ করবে। তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, গাছ সম্পর্কে জানতেও হবে। কোন গাছ কত অক্সিজেন উৎপাদন করে, মানুষের কী উপকারে আসে এবং পরিবেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ—এসব বিষয়ে ইন্টারনেট ও বিভিন্ন উৎস থেকে জানার পরামর্শ দেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর একটি নতুন গাছ সম্পর্কে জানতে পারলে তোমাদের জ্ঞানের পরিধিও বাড়বে। স্কুলে লাগানো গাছ বড় হয়ে একসময় তোমাদের ছায়া দেবে, বিশ্রামের জায়গা হবে। আর বাড়িতে লাগানো গাছ বড় হলে পরিবেশ হবে আরও শীতল ও বাসযোগ্য। তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ কেবল একটি কর্মসূচি নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বিনিয়োগ। পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটি অত্যন্ত স্মরণীয়। আজ আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশের মাটিতে একসঙ্গে অসংখ্য গাছ রোপণ করলাম। এই উদ্যোগ দেশের সবুজায়নকে আরও এগিয়ে নেবে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শিশু শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রাণ-প্রকৃতি বিষয়ক বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন এবং তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা ও প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সাবেক রাষ্ট্রপতি, সাবেক সেনাপ্রধান এবং জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ (এইচ এম) এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (মঙ্গলবার)। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় পার্টি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া মাহফিল, কবর জিয়ারত, স্মরণসভা এবং তার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আলোচনা অনুষ্ঠান। রংপুরের পল্লী নিবাসে অবস্থিত এরশাদের সমাধিস্থলেও বিশেষ দোয়া ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮২ সালে রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার শাসনামলে উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তন, বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক সংস্কারসহ নানা উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়। একই সঙ্গে তার শাসনামল সামরিক শাসন ও গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ব্যাপক সমালোচিতও ছিল। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পার্টির নেতারা মরহুম এরশাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং তার রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করেছেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় দলটির উদ্যোগে মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, স্টার্টআপের নতুন নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করবে সরকার। প্রথমবার স্টার্টআপ ব্যর্থ হলেও সম্ভাবনা থাকলে পরবর্তীতে অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তরুণদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বিজ্ঞাপন নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণ ও নারীর উদ্ভাবনী শক্তিকে অর্থনৈতিক প্রগতির মূলধারায় যুক্ত করা এখন জাতীয় অগ্রাধিকার। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত রূপান্তরের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ২০২৬-এ স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে, সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করা হয়েছে, যা উদ্ভাবনী উদ্যোগের অর্থায়ন ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।