লালমনিরহাটে জেলা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি এবং জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহঃ রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় লালমনিরহাট পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার, কমিটির সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল লালমনিরহাট শহরের বাস কাউন্টারগুলো কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে স্থানান্তর। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সরাসরি মতামত গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে টার্মিনাল স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করা হয়। সভাপতি জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু-এর নির্দেশনা অনুসরণ করে অতি দ্রুত এসব চ্যালেঞ্জ দূর করে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালকে পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন টার্মিনালে রূপান্তরের কার্যক্রম শুরু করা হবে। সভায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, লালমনিরহাট শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি জেলার সম্ভাবনাময় পর্যটন খাতকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে জেলা ব্র্যান্ডিং এগিয়ে নিতে হলে সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত, সুসংগঠিত ও শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা প্রয়োজন। তিনি বলেন, একটি সুশৃঙ্খল ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা শুধু মানুষের যাতায়াত সহজ করবে না, বরং জেলার সামগ্রিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আলোচনার শেষ পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রশাসন, পরিবহন ব্যবসায়ী সমিতি, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত ও আন্তরিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে সড়ক সংস্কার প্রকল্পের গাইড ওয়াল নির্মাণে পানির নিচে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ছুটির দিনে এলজিইডির কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এ কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। এলজিইডি বলছে, ঢালাইয়ের বিষয়ে অবগত নন তারা। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার আদিতমারী-মহিষখোচা সড়কের আনসার খার পুকুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পুকুরের পানির মধ্যেই কাঠের খাঁচা তৈরি করে গাইড ওয়ালের ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। কাজের সময় এলজিইডির কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে সেখানে দেখা যায়নি। স্থানীয়রা জানান, সড়কটির ঝুঁকিপূর্ণ অংশে গাইড ওয়াল নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে। তবে পানি অপসারণ বা অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করে সরাসরি পানির নিচে ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। ফলে এভাবে নির্মাণ করা গাইড ওয়াল টেকসই হবে না এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জানা গেছে, আদিতমারী উপজেলা থেকে মহিষখোচা ইউনিয়নগামী প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে সড়কটির পিচ ঢালাইসহ অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি রয়েছে আনসার খার পুকুর এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ অংশে গাইড ওয়াল নির্মাণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ছুটির দিন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের মতো করে কাজ করছে। পানির মধ্যে ঢালাই দেওয়ায় সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও কাজের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে উপস্থিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি। এ বিষয়ে আদিতমারী উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল হক বলেন, “আজ ছুটির দিন হওয়ায় আমাদের অফিসে লোকজন নেই। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজ ঢালাইয়ের কাজ করার বিষয়টি আমাদের জানায়নি। পানি থাকা অবস্থায় কোনোভাবেই ঢালাই দেওয়ার সুযোগ নেই। তারপরও বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিচ্ছি।”
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় অবৈধ চায়না ও কারেন্ট জালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে এক যুবককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে অবৈধ চায়না ও কারেন্ট জাল আমদানি, মজুদ ও বিক্রয়ের দায়ে উপজেলার মহিষাশহর গ্রামের রমজান আলী (১৯)-কে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গুঞ্জন বিশ্বাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ড প্রদান করেন। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ চায়না ও কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত জাল ধ্বংস করা হয়। মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ২ হাজার ৩৭০ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কসমেটিকস ও দুটি বাইসাইকেল আটক করেছে তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)-এর অধীন ধরলা বিওপির একটি টহলদল পাটগ্রাম উপজেলার ধরলার মোড় ও সরকারহাট এলাকায় অভিযানটি পরিচালনা করে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় টহলদলের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা ভারতীয় পণ্য ফেলে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবির সদস্যরা ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৩৩৩ পিস বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় কসমেটিকস এবং ভারতীয় জেড মাস্টার গোল্ড ব্র্যান্ডের দুটি বাইসাইকেল উদ্ধার করেন। বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার করা মালামালের মোট সংখ্যা ৩৩৫ পিস/টি। এসব পণ্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ১ লাখ ২ হাজার ৩৭০ টাকা। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পণ্যের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ধরলা বিওপির টহলদলের তৎপরতায় চোরাচালানের এসব পণ্য আটক করা সম্ভব হয়েছে। তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি) আরও জানিয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য অবৈধ পণ্যের চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের অভিযান ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদেরও বিজিবিকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আটক করা ভারতীয় কসমেটিকস ও দুটি বাইসাইকেল বিধি মোতাবেক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।