খেলাধুলা বিভাগের সর্বশেষ খবরসমূহ (৮টি সংবাদ)


অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন লালমনিরহাটের তরুণ পেসার মুশফিক হাসান। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘোষিত এই দলে সুযোগ পাওয়ায় উচ্ছ্বাস ছড়িয়েছে লালমনিরহাটের ক্রীড়াঙ্গনে। লালমনিরহাটের পাটগ্রামের এই ডানহাতি পেসার বয়সভিত্তিক ক্রিকেট, বাংলাদেশ ‘এ’ দল এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়েন। এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তার। আগামী আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। জাতীয় দলে মুশফিকের অন্তর্ভুক্তি লালমনিরহাটের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য গর্বের মুহূর্ত। জেলার ক্রীড়াঙ্গনের প্রত্যাশা, সুযোগ পেলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে দেশ ও জেলার মুখ উজ্জ্বল করবেন এই তরুণ পেসার।


জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। রোববার (১৯ জুলাই) বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয় তুলে নেয়। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। জবাবে ১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ১৯.৪ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রান করে জয় নিশ্চিত করে। বাংলাদেশের জয়ের পথে সর্বোচ্চ ৬৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তানজিদ হাসান। শেষদিকে মাহেদি হাসান দলের জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। এর আগে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ৩২ রানে হেরেছিল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ১৮৬/৫ রান করে জিম্বাবুয়েকে ১৫২ রানে অলআউট করে ৩৪ রানের জয় পায় টাইগাররা। শেষ ম্যাচেও জয় তুলে নিয়ে দুর্দান্তভাবে সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। এই সিরিজ জয় সফরে বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারার পর টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেল টাইগাররা।


স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইম বিরতি নিয়ে চলা জল্পনার অবসান ঘটিয়েছে ফিফা। সংস্থাটি জানিয়েছে, রোববার (১৯ জুলাই) নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফাইনালের হাফটাইম ১৭ মিনিটের বেশি হবে না। অর্থাৎ, প্রচলিত ১৫ মিনিটের বিরতির তুলনায় অতিরিক্ত সময় থাকবে মাত্র দুই মিনিট। ফিফা ইতোমধ্যে স্পেন ও আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। সেই বিরতির ১১ মিনিটজুড়ে থাকছে জমকালো সঙ্গীত পরিবেশনা, যেখানে মঞ্চ মাতাবেন বিশ্বখ্যাত তারকা শাকিরা, ম্যাডোনা ও জাস্টিন বিবার। বাকি প্রায় ৬ মিনিট ব্যবহার করা হবে দ্রুত মঞ্চ স্থাপন ও অপসারণের কাজে। একই সঙ্গে মাঠে পানি ছিটিয়ে ঘাসের অবস্থা ঠিক রাখার কাজও এই সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করা হবে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আগের কয়েকটি ম্যাচে মাঠের ঘাস কিছুটা শুষ্ক ও ধীরগতির বলে অভিযোগ উঠেছিল। বিশেষ করে স্পেন এ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। এর আগে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল, একাধিক শিল্পীর পরিবেশনার কারণে হাফটাইম ২৫ মিনিটেরও বেশি হতে পারে। তবে ফিফা জানিয়েছে, এমন কোনো পরিকল্পনা নেই এবং পুরো বিরতি ১৭ মিনিটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে, ম্যাচের হাইড্রেশন ব্রেক বা পানি পানের বিরতিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না। এবারের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র গরমের কারণে যেভাবে প্রতি অর্ধে একটি করে দুটি হাইড্রেশন ব্রেক রাখা হয়েছে, ফাইনালেও একই নিয়ম বহাল থাকবে।


ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি স্যার গারফিল্ড ‘গ্যারি’ সোবার্স আর নেই। শুক্রবার (১৭ জুলাই) ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সিডব্লিউআই) ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। গ্যারি সোবার্সকে ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ব্যাট হাতে যেমন ছিলেন অনন্য, তেমনি পেস, সুইং ও স্পিন—তিন ধরনের বোলিংয়েই সমান দক্ষতা দেখিয়ে তিনি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন। ১৯৫৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় সোবার্সের। দুই দশকের ক্যারিয়ারে তিনি খেলেছেন ৯৩টি টেস্ট ম্যাচ। এতে ৫৭.৭৮ গড়ে করেছেন ৮ হাজার ৩২ রান, যার মধ্যে রয়েছে ২৬টি সেঞ্চুরি। বল হাতে নিয়েছেন ২৩৫ উইকেট। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ৩৬৫ রানের ঐতিহাসিক ইনিংস খেলেছিলেন সোবার্স। সেটিই ছিল সে সময় টেস্ট ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড, যা দীর্ঘদিন অক্ষুণ্ন ছিল। শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নয়, প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটেও গড়েছেন ইতিহাস। ১৯৬৮ সালে নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে খেলতে নেমে এক ওভারে টানা ছয়টি ছক্কা হাঁকিয়ে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এই বিরল কীর্তি গড়েন তিনি। অসাধারণ ক্রিকেটীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৫ সালে ব্রিটিশ রাজমুকুটের পক্ষ থেকে নাইটহুডে ভূষিত হন সোবার্স। পরবর্তীতে আইসিসি বর্ষসেরা পুরুষ ক্রিকেটারের পুরস্কারের নামও রাখা হয় **স্যার গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি**। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে আইসিসি, ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজসহ বিশ্বের বিভিন্ন ক্রিকেট বোর্ড। সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবদন্তি এই অলরাউন্ডারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। গ্যারি সোবার্সের বিদায়ে ক্রিকেট হারাল এমন এক কিংবদন্তিকে, যার অলরাউন্ড নৈপুণ্য আজও অনেকের কাছে আদর্শ এবং যার কীর্তি ক্রিকেট ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা। আর মেগা ফাইনালে পা রেখেই বিশাল অঙ্কের প্রাইজমানি নিশ্চিত করে ফেলেছে দলটি। কেবল ফাইনাল নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সাড়ে ৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৫৪৬ কোটি টাকা পকেটে পুরেছে আলবিসেলেস্তেরা। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী এই বিশাল অঙ্কটি তিনটি ভাগে পাবে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১২০ কোটি টাকা এবং দল গোছানোর প্রস্তুতিমূলক খরচ হিসেবে আড়াই মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩০ কোটি টাকা আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল। এর সঙ্গে ফাইনালে ওঠার কারণে রানার্সআপ প্রাইজমানি হিসেবে অন্তত আরও ৩৩ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৯৬ কোটি টাকা নিশ্চিত হয়েছে তাদের। তবে আগামী রোববার দিবাগত রাত একটায় মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে জিততে পারলে এই হিসাব পুরোপুরি বদলে যাবে। তখন রানার্সআপের ৩৩ মিলিয়ন ডলারের জায়গায় চ্যাম্পিয়ন প্রাইজমানি হিসেবে তারা পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে শিরোপা জিতলে আর্জেন্টিনার মোট আয় দাঁড়াবে সাড়ে ৬২ মিলিয়ন ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৫০ কোটি টাকার সমান। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে বড় অঙ্কের প্রাইজমানি দিচ্ছে ফিফা। গত এপ্রিলে ৪৮ দলের এই মেগা টুর্নামেন্টের জন্য রেকর্ড প্রাইজমানি অনুমোদন দেয় ফিফা কাউন্সিল। দলগুলোর অংশগ্রহণ এবং পারফরম্যান্স মিলিয়ে এবারের আসরে সর্বমোট ৮৭১ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১০ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা পুরস্কার হিসেবে বরাদ্দ রেখেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।


৮৬ মিনিট পর্যন্ত ফাইনালের খুব কাছাকাছি ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু মাঠে যখন লিওনেল মেসি, তখন শেষ বাঁশি বাজার আগে গল্প শেষ হয় না। আর তাই হলো, অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে প্রথমার্ধ ছিল উত্তেজনা, কড়া ট্যাকল আর স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে ভরা। চতুর্থ মিনিটেই এনসো ফার্নান্দেসের ট্যাকলে পড়ে যান এলিয়ট অ্যান্ডারসন। সেটিকে ঘিরে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। তবে রেফারি ইসমাইল এলফাথ দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেন। ইংল্যান্ড শুরুতে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও আর্জেন্টিনা ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে থাকে। ১৫তম মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে দারুণ আক্রমণে ওঠেন অ্যান্থনি গর্ডন, কিন্তু অতিরিক্ত ড্রিবল করায় সুযোগ নষ্ট হয়। ২০তম মিনিটে কেইন-রজার্সের সমন্বয়ে গড়া আক্রমণ থেকে রিস জেমসের নিচু ক্রস সহজেই ধরে ফেলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস। ২৮তম মিনিটে জর্ডান পিকফোর্ডের ভুল ক্লিয়ারেন্স থেকে সুযোগ তৈরি হলেও বল নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি মেসি। এরপর ৩৩তম মিনিটে ডেকলান রাইসের ফ্রি-কিক থেকে জন স্টোনসের হেড অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। ৩৭তম মিনিটে মেসিকে থামাতে গিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন অ্যান্ডারসন। পাঁচ মিনিট পর দ্রুতগতির কাউন্টার থামাতে রজার্সকে ফাউল করে বুকিং পান লিসান্দ্রো মার্তিনেস। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার সেরা সুযোগ আসে ৩৮তম মিনিটে, যখন এনজো ফার্নান্দেজের ২৫ গজ দূরের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। গোলশূন্য অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের গতি বেড়ে যায়। ৪৮তম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেসের শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন পিকফোর্ড। ৫৫তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পায় ইংল্যান্ড। মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে মর্গান রজার্স বাঁ দিক থেকে নিখুঁত ক্রস বাড়ান, আর সেখানে দারুণ দৌড়ে এসে কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন। গোল হজমের পরপরই সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ৫৭তম মিনিটে জুলিয়ানো সিমেওনের নিশ্চিত গোল অবিশ্বাস্য স্লাইডিং ট্যাকলে রুখে দেন জেড স্পেন্স। এরপর পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় লিওনেল স্কালোনির দল। ৬৯তম মিনিটে মেসির দারুণ ক্রস থেকে নিকো গনসালেসের হেড অসাধারণ সেভে ফিরিয়ে দেন পিকফোর্ড। ৭৭তম মিনিটে আবারও সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করে আর্জেন্টিনা। রদ্রিগো দে পলের ক্রসে আলেক্সিস মাক আলিস্তারের ফাঁকা হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ইংল্যান্ডের সমর্থকেরা তখনও ফাইনালের স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু শেষ দশ মিনিটে ম্যাচের রূপ পাল্টে যায়। ৮৫তম মিনিটে এনসো ফার্নান্দেসের জোরালো দূরপাল্লার শট কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন পিকফোর্ড। এক মিনিট পরই আসে সমতার গোল। মেসি মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে একের পর এক ইংল্যান্ড খেলোয়াড়কে কাটিয়ে বক্সের বাইরে এনসোর কাছে বল বাড়ান। চেলসি মিডফিল্ডার এবার কোনো ভুল করেননি; বাঁকানো শটে পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে স্কোরলাইন ১-১ করেন তিনি। ইংল্যান্ড তখনও অতিরিক্ত সময়ের আশায় ছিল। কিন্তু যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আর্জেন্টিনা শেষ আঘাত হানে। মাক আলিস্তারের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে বল ধরে ডান প্রান্তে চলে যান মেসি। সেখান থেকে নিখুঁত ক্রসে বদলি নেমে আসা লাউতারো মার্তিনেস হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা শিবির। শেষ সময়ে ইভান টনি ও মার্কাস রাশফোর্ডকে নামিয়ে মরিয়া চেষ্টা চালায় ইংল্যান্ড। কিন্তু আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ রক্ষণ আর এমিলিয়ানো মার্তিনেসের দৃঢ়তায় আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি থ্রি লায়ন্স। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার ২-১ গোলের নাটকীয় জয়। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও মেসির নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়িয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন।


বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ২০১০ সালে সর্বশেষ শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ খেলা স্প্যানিশদের দাপটে ডালাস স্টেডিয়ামের এই সেমিফাইনালে ফরাসিরা বেশ অসহায় ছিল। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণ দেখা যায়। নবম মিনিটে বক্সের বাইরে ফ্রি কিক পায় স্পেন। তবে বায়েনার নেওয়া কিক রক্ষণদেয়ালে আটকে যায়। এরপর ১৪ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে ফ্রান্স দারুণ সুযোগ পেয়েছিল। এমবাপ্পে বল নিয়ে দ্রুত বক্সে ঢুকলেও স্পেনের কুবারসি ও লাপোর্তে নিজেদের পজিশনে থেকে তাকে রুখে দেন। তখন এমবাপ্পের সামনে কেবল পোরো ও স্প্যানিশ গোলকিপার ছিলেন। স্পেন প্রথম গোলের দেখা পায় পেনাল্টি থেকে। ২০ মিনিটে স্প্যানিশ লেফটব্যাক কুকুরেয়া বক্সে ক্রস বাড়ান। ফরাসি ডিফেন্ডার দিনিয়ে বুক দিয়ে বল থামাতে গিয়ে ব্যর্থ হন এবং সামনে থাকা লামিন ইয়ামালকে ফাউল করে বসেন। রেফারি দ্রুত পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ১৯ বছর ১ দিন বয়সী ইয়ামাল বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে পেনাল্টি আদায় করেন। ২৩ মিনিটে স্পট কিক থেকে গোল করেন মিকেল ওয়ারসাবাল। ডানদিকে শট নেন তিনি, ফরাসি গোলরক্ষক মাগনিয়ঁ ঠিক দিকেই ডাইভ দিয়েছিলেন, কিন্তু বল তার নাগালের বাইরে দিয়ে জালে জড়ায়। পিছিয়ে পড়ার পর ফ্রান্সের বিপদ আরও বাড়ে। ২৯ মিনিটে ইনজুরির কারণে দলের সেন্টার ব্যাক সালিবা মাঠ ছাড়েন। কোচ দিদিয়ের দেশম তার বদলি হিসেবে ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়াকে নামাতে বাধ্য হন। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে দুই দলই সুযোগ তৈরি করেছিল। ৩৬ মিনিটে স্পেনের বায়েনা দূরপাল্লার ক্রস থেকে বল পান। মাগনিয়ঁ তাকে আটকাতে চেয়েছিলেন, তবে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড শট নিলেও অফসাইডের বাঁশি বাজে। পরের মিনিটে ফরাসি তারকা বারকোলার ডানপায়ের বাঁকানো শট গোলবারের অনেক ওপর দিয়ে যায়। ৪০ মিনিটে স্পেন দারুণ একটি সুযোগ তৈরি করে। ওলমো আর ইয়ামাল ওয়ান টু পাস খেলেন। এরপর ওলমোর ব্যাকহিল থেকে ইয়ামাল বল বাড়ান রুইজকে। কিন্তু রুইজের শট বার ঘেঁষে চলে যায়। বিরতির ঠিক আগে ৪৩ মিনিটে ফ্রান্সও ভালো সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু এমবাপ্পে বল পাওয়ার আগেই স্প্যানিশ গোলরক্ষক সিমন দ্রুত বক্সের বাইরে এসে তা ক্লিয়ার করেন। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্পেন। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্প্যানিশরা। কাউন্টার অ্যাটাকে দানি ওলমো প্রথম সুযোগটি হাতছাড়া করেন এবং ওইয়ারজাবালকে বল পাস দিতে ব্যর্থ হন। তবে বলটি শেষ পর্যন্ত পেড্রো পোরোর কাছে যায়। পোরো ওলমোর সঙ্গে ওয়ান টু খেলে মাগনিয়ঁকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান। তিন মিনিট পর ৬১ মিনিটে ইয়ামাল দারুণ একক চেষ্টায় বল জালে পাঠালেও লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা ওড়ান। বার্সা তারকা শেষ ডিফেন্ডার দিনিয়ের চেয়ে কয়েক মিলিমিটার এগিয়ে ছিলেন। ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে ফ্রান্স মুহুর্মুহু আক্রমণ চালাতে থাকে। কিন্তু গোলরক্ষক সিমন ও ডিফেন্ডার কুকুরেয়ার বাধায় তারা সফল হয়নি। ৬৮ মিনিটে বক্সের প্রান্ত থেকে নেওয়া এমবাপ্পের শট আটকে দেন কুকুরেয়া। ৮০ মিনিটে বদলি নামা স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেসের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৮২ মিনিটে গোলরক্ষক সিমন ভুল করে বক্সের বাইরে চলে এলে দুয়ে শট নেন, তবে সিমন দ্রুত পেছনে ফিরে বক্সের ভেতর তা ব্লক করেন। পরের মিনিটে হার্নান্দেজকেও রুখে দেন তিনি। ৮৯ মিনিটে এমবাপ্পের শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায় এবং পরের মিনিটে এমবাপ্পের আরেকটি শট নিজেদের বক্সের ভেতর থেকে ক্লিয়ার করেন কুকুরেয়া। ২-০ গোলের স্বস্তির জয় নিয়ে ফাইনালে পা রাখে স্পেন।


বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট কার মাথায় উঠবে, তা নির্ধারণ হতে আর মাত্র দুটি ম্যাচ বাকি। আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স এবং স্পেন—এই চার পরাশক্তি এখন সেমিফাইনালের মহারণে মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত প্রতিটি দলই ছয়টি করে ম্যাচ খেলেছে। তবে নকআউট পর্বের নাটকীয়তার কারণে দলগুলোর মাঠের খেলার সময়সীমা এক ছিল না। অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ গড়ানোর ফলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা অন্য দুই সেমিফাইনালিস্ট ফ্রান্স ও স্পেনের চেয়ে পুরো এক ঘণ্টা বেশি ফুটবল খেলেছে, আর ইংল্যান্ড খেলেছে ৩০ মিনিট বেশি। পরিসংখ্যানের প্রকৃত ও নিরপেক্ষ চিত্র ফুটিয়ে তুলতে তাই এই অতিরিক্ত সময় বা খেলার স্থায়িত্বকে বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে প্রতি ৯০ মিনিটের গড় পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে দলগুলোর শক্তি ও দুর্বলতা মূল্যায়ন করা হয়েছে। সবচেয়ে ক্লিনিক্যাল কে? আক্রমণের সার্বিক সংখ্যার দিকে তাকালে দেখা যায়, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১৭টি গোল করেছে। তবে গোল করার সুযোগ তৈরি এবং প্রতিপক্ষের বক্সে ত্রাস ছড়ানোর ক্ষেত্রে দুবারের বিশ্বজয়ী ফ্রান্স সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। ফরাসিরা প্রতি ৯০ মিনিটে গড়ে সবচেয়ে বেশি গোল, যৌথভাবে সর্বোচ্চ শট এবং সর্বোচ্চ এক্সপেক্টেড গোলস অর্জন করেছে। ফরাসি আক্রমণভাগের এই বিধ্বংসী রূপ তাদের শিরোপা ধরে রাখার অন্যতম বড় হাতিয়ার। অন্যদিকে, সুযোগকে গোলে রূপান্তর করার দক্ষতায় অর্থাৎ ‘ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ে’ সবাইকে পেছনে ফেলেছে আর্জেন্টিনা। দক্ষিণ আমেরিকান এই পরাশক্তি তাদের নেওয়া মোট সুযোগের রেকর্ড ১৮% গোলে পরিণত করেছে। ঠিক এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনের ক্ষেত্রে। লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা ফ্রান্সের সমান ১১০টি শট নিয়েও গোল করতে পেরেছে মাত্র ১১টি, যেখানে ফ্রান্সের গোল সংখ্যা ১৬। অর্থাৎ, সমান সুযোগ তৈরি করেও স্পেন প্রতি ম্যাচে ফ্রান্সের চেয়ে প্রায় ১টি করে গোল কম করেছে, যা তাদের ফরোয়ার্ডদের দুর্বল ফিনিশিং ও সুযোগ নষ্টের প্রবণতাকেই নির্দেশ করে। এই ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডের কৌশলটি বেশ চমকপ্রদ। আক্রমণের সৃজনশীলতা ও শটের গুণগত মানের দিক থেকে ইংল্যান্ড বাকি তিন দলের চেয়ে পরিসংখ্যানগতভাবে বেশ পিছিয়ে রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও থ্রি লায়ন্সরা প্রতি ম্যাচে গড়ে দুটি করে গোল তুলে নিয়েছে। এর মূল কৃতিত্ব জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইনের অতি-মানবীয় ও ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ের ওপর ভরসা করা। কার ডিফেন্স কতটা দুর্ভেদ্য? বিজ্ঞাপন এবারের বিশ্বকাপে রক্ষণের দিক থেকে সবচেয়ে সলিড বা জমাট দল হলো স্পেন। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তারা পুরো টুর্নামেন্টে কোনো গোলই হজম করেনি। ডিফেন্সে স্পেনের এই অভেদ্য প্রাচীর যেকোনো আক্রমণভাগের জন্যই এক চরম পরীক্ষা। ফ্রান্সও ডিফেন্সে দুর্দান্ত করেছে, ছয় ম্যাচে তারা গোল খেয়েছে মাত্র ২টি। সেমিফাইনালের মঞ্চে তাই ফ্রান্সের অদম্য আক্রমণভাগের বিপরীতে স্পেনের এই পাথুরে ডিফেন্সের এক চরম দ্বৈরথ দেখা যাবে, যাকে বলা হচ্ছে ‘অদম্য শক্তির বিরুদ্ধে স্থবির বস্তুর লড়াই’। অন্যদিকে, দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাওয়া ইংল্যান্ড এবং আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ মোটেও আশ্বস্ত করতে পারছে না। দুদলই এ পর্যন্ত ৬টি করে গোল হজম করেছে। তবে গোল খাওয়ার ধরনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ইংল্যান্ড তাদের বক্সে প্রতিপক্ষকে সবচেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি করতে দিয়েছে, অন্যদিকে আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের তৈরি করা আক্রমণ ও শট প্রতিহত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম সফল হয়েছে। ফলে শেষ চারের ম্যাচে দুদলের জন্যই গোল পাওয়ার এবং গোল খাওয়ার বড় সম্ভাবনা রয়েছে। মাঠের সবচেয়ে পরিশ্রমী কারা? কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনা টুর্নামেন্টে দৌড়ে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব (৭০৬.৫ কিলোমিটার) অতিক্রম করেছে। তবে এটি মূলত তাদের অতিরিক্ত সময় খেলার কারণে হয়েছে। প্রতি ৯০ মিনিটের খেলার সময় বিবেচনা করলে দেখা যায়, আর্জেন্টিনা আসলে বাকি তিন দলের চেয়ে সবচেয়ে কম দৌড়েছে এবং সবচেয়ে কম গতিতে দৌড়েছে। এমনকি টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত খেলা প্রতিটি ম্যাচেই তারা প্রতিপক্ষ দলের চেয়ে দৌড়ের গতি ও দূরত্বে পিছিয়ে ছিল। কম দৌড়ানোর এই প্রভাব পড়েছে তাদের প্রেসিং কৌশলে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা প্রতিপক্ষের কাছ থেকে হাই-প্রেস করে বল কেড়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম আক্রমণাত্মক ছিল। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও স্পেনের তুলনায় আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের সীমানায় বল জয়ের দিক থেকে বেশ পিছিয়ে। এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র স্পেনের। স্পেন এবারের আসরের সবচেয়ে পরিশ্রমী দল। তারা বাকি দলগুলোর চেয়ে সবচেয়ে বেশি দৌড়েছে, সবচেয়ে বেশি স্প্রিন্ট করেছে এবং প্রতিপক্ষকে সবচেয়ে বেশি চেপে ধরে হাই-প্রেস করেছে। স্পেন শুধু পরিশ্রমেই সেরা নয়, বলের নিয়ন্ত্রণ বা পজেশন ধরে রাখার ক্ষেত্রেও তারা রাজত্ব করছে। লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল গড়ে ৬৬% পজেশন ধরে রেখেছে, যা এই বিশ্বকাপের যেকোনো দলের চেয়ে সর্বোচ্চ। পাসিংয়ের নিখুঁততার ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা ও স্পেন যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছে, দুদলেরই পাসিং অ্যাকুরেসি ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ। অবশ্য চার সেমিফাইনালিস্টই পাসিংয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে। এরিয়েল ডুয়েল ও কৌশলগত দ্বৈরথ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা দিতে হবে ইংল্যান্ডের ক্রসিং রুখতে। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ও জাদুকর লিওনেল মেসি এই বিশ্বকাপে একক খেলোয়াড় হিসেবে সবচেয়ে বেশি থ্রু-বল (১৫টি) বাড়িয়েছেন। ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের লিওনেল মেসির থ্রু-বলগুলো কাটার জন্য সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। অন্যদিকে টমাস টুখেলের ইংল্যান্ডের রয়েছে এক দুর্দান্ত এরিয়েল লড়াইয়ের শক্তি। ইংলিশরা ওপেন প্লে থেকে ক্রসিংয়ে সবচেয়ে সফল, তাদের প্রতি ৪টি ক্রসের ১টি নিখুঁতভাবে সতীর্থের মাথায় বা পায়ে পৌঁছায়। এই ক্রসিং দক্ষতার কারণেই ইংল্যান্ড টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৪টি হেডে গোল করেছে এবং সর্বোচ্চ ২৪টি হেডের মাধ্যমে শট নিয়েছে। আর্জেন্টিনার জন্য আশঙ্কার কথা হলো, চার সেমিফাইনালিস্টের মধ্যে তাদেরই এরিয়েল ডুয়েলে জেতার হার সবচেয়ে কম। তবে ফিফটি-ফিফটি বল দখলের লড়াইয়ে ইংল্যান্ড সামান্য ব্যবধানে হলেও সবার চেয়ে এগিয়ে। ব্যক্তিগত দক্ষতার দিক থেকে লিওনেল মেসি টুর্নামেন্টে ড্রিবলিংয়ে শীর্ষ তিনজনের মধ্যে থাকলেও, তার দলের বাকি সদস্যরা ড্রিবলিংয়ের চেষ্টা খুব কমই করেছেন। অন্যদিকে ফ্রান্সের শক্তির জায়গা হলো তাদের ফ্রন্ট লাইনের চার ফরোয়ার্ড, যারা অনবরত ড্রিবলিং করে স্পেনের ডিফেন্সের দিকে বল নিয়ে চড়াও হতে পছন্দ করেন। পরিসংখ্যানের এই রোমাঞ্চকর উপাত্তগুলো সেমিফাইনালের মঞ্চে এক অসাধারণ লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্পেনের নিখুঁত রক্ষণ ও হাই-প্রেসিং ফুটবল কি পারবে ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে রুখে দিতে? কিংবা ইংল্যান্ড কি পারবে আর্জেন্টিনার দুর্বল আকাশসীমাকে তছনছ করে ফাইনালে উঠতে? কৌশল, ক্লান্তি এবং ব্যক্তিগত জাদুকরী পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে এই সপ্তাহের বিশ্বসেরার মুকুট। https://www.dailyamardesh.com/sports/football-worldcup/amd5hwaaw81ux